পার্ট - ১ || সূরাঃ আলে ইমরান
✅আলিফ লাম মীম।
—আলে ইমরান - ১
✅সূরা আলে ইমরানের ১ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একদা একদল খ্রিষ্টান রাসূল (সাঃ) এর নিকট এসে বিতর্কের সুরে বলতে লাগল, "হে মুহাম্মাদ! ঈসা (আঃ) যদি আল্লাহর জাত পুত্র না হয়ে থাকেন তবে বলুন, তাঁর পিতা কে? রাসূল (সাঃ) বললেন, হে মূর্খের দল! তোমাদের মতেও তো আল্লাহ্ অবিনশ্বর সত্তা, নশ্বর, তাঁর মৃত্যু আছে তিনি পানাহার করতেন, নিদ্রা জেতেন, পেশাব-পায়খানা করতেন। অথচ আল্লাহ্ তা'য়ালা এসব কিছু হতে পাক পবিত্র। কিন্তু এটি সর্বজনবিদিত যে জাত হয় জাতকের ন্যায়। সুতরাং ঈসা (আঃ) যদি আল্লাহ্র জাত পুত্র হতেন তবে তিনিও আল্লাহ্র ন্যায় পবিত্র ও বেপরোয়া থাকবেন। রাসূল (সাঃ) এর বক্তব্য শুনে খ্রিস্টানরা চুপ হয়ে গেল। অতঃপর এর সমর্থনে আল্লাহ্র সত্তার পরিচয় প্রদান পূর্বক এই সূরার প্রথম দশটির অধিক আয়াত নাযিল করেন। আর এই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অত্র আয়াতটি নাজিল হয়।
✅আল্লাহ তিনিই, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। যিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র জগতের নিয়ন্ত্রক।
—আলে ইমরান - ২
✅তিনি সত্যসহ তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সমর্থন করে এবং তিনিই তাওরাত ও ইনজীল নাযিল করেছেন।
—আলে ইমরান - ৩
✅মানুষের জন্য সাক্ষাত হিদায়াতরূপে এবং তিনিই সত্য ও মিথ্যা যাচাইয়ের মানদণ্ড নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
—আলে ইমরান - ৪
✅নিশ্চিত জেনে রেখ, আল্লাহর কাছে আসমান ও যমীনের কোন বিষয়ই গোপন নেই।
—আলে ইমরান - ৫
✅তিনিই সেই সত্তা, যিনি মায়ের পেটে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি দান করেছেন। তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
—আলে ইমরান - ৬
✅হে রাসূল! সেই আল্লাহই এমন সত্তা, যিনি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত মুহকাম, যার উপর কিতাবের মূল ভিত্তি এবং অপর কিছু আয়াত মুতাশাবিহ। যাদের অন্তরে বক্রতা আছে, তারা সেই মুতাশাবিহ আয়াতসমূহের পেছনে পড়ে থাকে, উদ্দেশ্য ফিতনা সৃষ্টি করা এবং সেসব আয়াতের তাবীল খোঁজা, অথচ সেসব আয়াতের যথার্থ মর্ম আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আর যাদের জ্ঞান পরিপক্ক তারা বলে, আমরা এর সেই মর্মের প্রতি বিশ্বাস রাখি যা আল্লাহ তাআলার জানা। সবকিছুই আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এবং উপদেশ কেবল তারাই গ্রহণ করে, যারা বুদ্ধিমান।
—আলে ইমরান - ৭
✅সূরা আলে ইমরানের ৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যার দ্বারা হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝা যায় তাই 'ফুরকান'। যাদের অন্তরে বক্র রয়েছে, তাঁরা সুস্পষ্ট আয়াত পরিত্যাগ করে অস্পস্ট আয়াত নিয়ে ঘটাঘাটি করে তা হতে নিজ উদ্দেশের অনুকূলে অর্থ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে প্রয়াস চালায়। এদের সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসে কঠোর সাবধানের বানী উচ্চারিত হয়েছে। তাঁরা সুস্পষ্ট ও অস্পষ্ট উভয় আয়াতকে সত্য মনে করেন। কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, উভয় প্রকার আয়াত একই উৎস হতে উৎসাহিত। সুস্পষ্ট আয়াতের অর্থ জানা আমাদের জন্য উপকার ও জরুরী ছিল, এই জন্য আল্লাহ্ তায়ালা তা গোপন রাখেন নি। আর অস্পস্ট আয়াতের অর্থ আল্লাহ্ তা'য়ালা বিশেষ হিকমতের কারণে বর্ণনা করেন নি। কাজেই তা জানা আমাদের জন্য জরুরী নয়। বিশ্বাস স্থাপনই যথেষ্ট। উক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অত্র আয়াতটি নাজিল হয়।
✅হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লংঘনপ্রবণ করে না এবং তোমার নিকট হতে আমাদেরকে রহমত দান কর, নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা।
—আলে ইমরান - ৮
✅হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি মানব জাতিকে একদিন একত্রিত করবে, এতে কোন সন্দেহ নেই; নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।
—আলে ইমরান - ৯
✅নিশ্চয়ই যারা কুফরী অবলম্বন করেছে, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর সামনে কখনই কাজে আসবে না। আর তারাই হচ্ছে দোযখের ইন্ধন।
—আলে ইমরান - ১০
✅ফেরআউনের সম্প্রদায় এবং তাদের পূর্ববর্তীদের ধারা অনুযায়ী তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। ফলে তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছেন আর আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন।
—আলে ইমরান - ১১
✅যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদেরকে বলে দাও, অচিরেই তোমরা পরাভূত হবে ৪ এবং তোমাদেরকে একত্র করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে, আর তা অতি মন্দ ঠিকানা।
—আলে ইমরান - ১২
✅সূরা আলে ইমরানের ১২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কুরাইশী কাফেরদের পরাজিত করে বদর যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তন করার পর বনু কায়নোকা বাজারে ইহুদীদেরকে সমাবেত করে ইসলাম গ্রহনের আহবান করলেন। নতুবা কুরাইশীদের ন্যায় তাদেরকেও পরাজয়ের গ্লানি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিলেন। জবাবে ইহুদী দম্ভের সাথে বলল, "আমরা যে কেমন বীর এবং পারদর্শী যোদ্ধা আমাদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ন হলে বুঝতে পারবে, হে মুহাম্মাদ আমরা কুরাইশদের ন্যায় অনভিজ্ঞ যোদ্ধা নয়। তাদের দাম্ভিক অহঙ্কারী উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে অত্র আয়াতটি নাযিল হয়। বায়যাবী শরীফে "লিল্লাযীনা কাফারু" হতে মক্কায় মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে।
✅তোমাদের জন্য সেই দুই দলের ঘটনার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে, যারা একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। তাদের মধ্যে একটি দল আল্লাহর পথে লড়াই করছিল এবং দ্বিতীয়টি ছিল কাফির। তারা নিজেদেরকে খোলা চোখে তাদের চেয়ে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয়ই এর ভেতর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের জন্যে শিক্ষা আছে।
—আলে ইমরান - ১৩
যোগসূত্রঃ
যোগসূত্রঃ ২ আয়াতেকারীমায় কাফেরদের পর্যুদস্ত হওয়ার সংবাদ দেয়া হয়েছে। এখানে উপমা স্বরূপ একটি প্রমাণ বর্ননা করেছেন।
✅মানুষের জন্য ওই সকল বস্তুর আসক্তিকে মনোরম করা হয়েছে, যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা মোতাবেক অর্থাৎ নারী, সন্তান, রাশিকৃত সোনা-রুপা, চিহ্নিত অশ্বরাজি, চতুষ্পদ জন্তু ও ক্ষেত-খামার। এই সবই জীবনের ভোগ সামগ্রী। কিন্তু স্থায়ী পরিণামের সৌন্দর্য কেবল আল্লাহরই কাছে।
—আলে ইমরান - ১৪
✅সূরা আলে ইমরানের ১৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাতটি বিষয় মানুষকে মায়া-মমতায়, বিবাদ বিসংবাদ ও বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে ফেলে। এর প্রথমটি হল নারী। নারী মোহ মানুষকে ধ্বংস করা সত্ত্বেও নারী পুরুষের মাঝে একটা চুম্বকের ন্যায় আকর্ষণ বিদ্যমান। দ্বিতীয়টি হল সন্তান। যাকে নিজের স্থলাভিষিক্ত ভেবে নিজের চেয়েও বেশি দিতে চায় তাঁর জন্য। তৃতীয়টি হল ধন-সম্পদ সোনা-রুপা। যার কারণে মানুষ অহংকারী হয়। চতুর্থটি হল গরু-মহিষ, গৃহপালিত পশু ইত্যাদি। এরপর ক্ষেত-খামার। আল্লাহ্ এরশাদ করেন, পার্থিব জীবনের ধন-সম্পদ ক্ষতি মিশানো, কিন্তু আল্লাহ্র নিকট এটা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট সুস্বাধু ও চিত্তাকর্ষক এবং আনন্দায়ক বস্তুসমূহ বিদ্যমান রয়েছে। অথচ মানুষ মানুবীয় স্বভাবসুলভ এসব বস্তুসমূহের প্রতিই ধাবিত হতে থাকে এবং তাকেই উত্তম মনে করে। অথচ পরকালের নিয়ামতের তুলনায় পার্থিব ভোগ বিলাস একেবারেই মূল্যহীন।
✅বল, আমি কি তোমাদেরকে এসবের চাইতেও উত্তম বিষয়ের সন্ধান বলবো, যারা পরহেযগার, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে এমন বেহেশতে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত, যেখানে তারা সর্বদা থাকবে এবং তাদের জন্য আছে পবিত্র স্ত্রী ও আল্লাহর পক্ষ হতে সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন।
—আলে ইমরান - ১৫
✅যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার প্রতি ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদের পাপ ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।
—আলে ইমরান - ১৬
✅তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।
—আলে ইমরান - ১৭
✅আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই, ফিরিশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও, আল্লাহর ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত, তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
—আলে ইমরান - ১৮
✅সূরা আলে ইমরানের ১৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইমাম বগভী (রহঃ) বলেন, সিরিয়া থেকে দুজন বিশিষ্ট ইহুদী পন্ডিত একবার মদীনার আবাসিক এলাকা দেখে মন্তব্য করেন যে, শেষ জামানার নবী যে ধরনের লোকালয়ে বসবাস করবেন বলে তওরাত কিতাবে ভবিস্যদ্বানী রয়েছে এটা ঠিক সে রকম বলে মনে হয়। এর পর তাঁরা জানতে পারলেন যে, এখানে একজন মহান ব্যক্তি আছেন, যাকে সবাই নবী বলে আখ্যায়িত করে। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দরবারে উপস্থিত হলেন। তাঁর প্রতি দৃষ্টি পড়তেই তওরাতে বর্ণিত আখেরী নবীর গুনাবলী তাদের সামনে ভেসে উঠে। তাঁরা বললেন, আপনি কি মুহাম্মদ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি আহমদ? তিনই বললেন, হ্যাঁ। তারা আরও বললেন আমরা আপনাকে একটি প্রশ্ন করব। আপনি সঠিক উত্তর দিতে পারলে আমরা আপনার উপর ইমান আনব। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন। জিজ্ঞাসা করুন। তারা বললেন, আসমানী কিতাবসমূহের মধ্যে আল্লাহ্ তায়ালা সম্পর্কিত সর্ববৃহৎ সাক্ষ্য কি? এ প্রশ্নের উত্তরে আলোচ্য আয়াত অবতীর্ন হয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আয়াতটি তিলাওয়াত করে তাদের শুনিয়ে দিলেন তারা তৎক্ষণাৎ মুসলমান হয়ে যান।
✅নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দীন কেবল ইসলামই। যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষবশত ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে। আর যে কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করবে তার স্মরণ রাখা উচিত যে, আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
—আলে ইমরান - ১৯
✅যদি তারা তোমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয় তবে তুমি বল, ‘আমি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করেছি এবং আমার অনুসারিগণও। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদেরকে এবং নিরক্ষরদেরকে বল, ‘তোমরাও কি আত্মসমর্পণ করেছে?’ যদি তারা আত্মসমর্পণ করে তবে নিশ্চয়ই তারা হিদায়াত পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কর্তব্য শুধু প্রচার করা। আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।
—আলে ইমরান - ২০
✅যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে, নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে এবং মানুষের মধ্যে যারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকার নির্দেশ দেয় তাদেরকেও হত্যা করে, তাদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তির ‘সুসংবাদ’ দাও।
—আলে ইমরান - ২১
✅যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, এরাই তারা, দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে গেছে, আর তাদের কোনও সাহায্যকারী নেই।
—আলে ইমরান - ২২
✅আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা কিতাবের কিছু অংশ পেয়েছিল এবং আল্লাহর কিতাবের প্রতি তাদের আহবান করা হয়েছিল, যাতে তাদের মধ্যে মীমাংসা করা যায়। অতঃপর তাদের মধ্যে একদল তা অমান্য করে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।
—আলে ইমরান - ২৩
✅যারা আল্লাহর কিতাবকে অস্বীকার করে এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তারা বলে থাকে, আগুন কখনই আমাদেরকে দিন কতকের বেশি স্পর্শ করবে না। আর তারা যেসব মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, তাই তাদেরকে তাদের দীন সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলেছে।
—আলে ইমরান - ২৪
✅সেই দিন তাদের কী অবস্থা হবে, যখন আমি তাদেরকে একত্রিত করবো, যেই দিনের আগমনের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আর প্রত্যেককে দেওয়া হবে তাদের নিজেদের প্রাপ্য প্রতিদান। আর তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না।
—আলে ইমরান - ২৫
✅বল, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান কর আর যার নিকট হতে ইচ্ছা ক্ষমতা ছিনিয়ে নাও; যাকে ইচ্ছা তুমি সম্মান দান কর, আর যাকে ইচ্ছা তুমি অপমানে পতিত কর। সমস্ত কল্যাণ তোমারই হাতে। নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
—আলে ইমরান - ২৬
✅তুমিই রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করাও। আর তুমিই মৃত হতে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটাও, আবার জীবন্ত হতে মৃতের আবির্ভাব ঘটাও। আর তুমিই যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান কর।
—আলে ইমরান - ২৭
✅মুমিনগণ যেন মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে নিজেদের বন্ধু না বানায়। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। তবে তাদের জুলুম থেকে বাঁচার জন্য যদি আত্মরক্ষামূলক কোনও পন্থা অবলম্বন করে, তবে সেটা ভিন্ন কথা। তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকতে হবে, আর আল্লাহ তার নিজ শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। আর তোমাদের সকলকে তার কাছেই ফিরে যেতে হবে।
—আলে ইমরান - ২৮
✅সূরা আলে ইমরানের ২৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হযরত ইবনে আব্বাস (রাজিঃ) থেকে বর্ণিত, কা'আব ইবনে আশরাফের সাথে চুক্তিবদ্ধ হাজ্জাজ ইবনে আমর ও কাইছ ইবনে যায়েদের কতিপয় আন্ছারীর সাথে গোপন আঁতাত করে, যেন তাদেরকে ধর্মান্তর করা যায়। তখন রিফা'আ ইবনে মুনযের এবং আবদুল্লাহ ইবনে জোবাইর ও ছা'আদ ইবনে খায়ছম (রাজিঃ) ঐ আনসারীদেরকে ইহুদীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন ও গোপন আঁতাত পরিহার করার জন্য উপদেশ দিলে আনসারী দল তা প্রত্যাখ্যান করে, এই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অত্র আয়াতটি নাজিল হয়।
✅হে রাসূল!! তুমি মানুষদেরকে বলে দাও, তোমাদের অন্তরে যা-কিছু আছে, তোমরা তা গোপন রাখ বা প্রকাশ কর, আল্লাহ সেই সবকিছুই জানেন এবং তিনি জানেন যা কিছু আসমান ও যমীনে আছে, আর অবশ্যই জেনে রেখ আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
—আলে ইমরান - ২৯
✅সেই দিনকে স্মরণ রেখ, যে দিন প্রত্যেকে যে যে ভালো কাজ করেছে তা চোখের সামনে উপস্থিত দেখতে পাবে এবং যে যে মন্দ কাজ করেছে তাও নিজের চোখের সামনে উপস্থিত দেখতে পাবে এবং আকাঙ্ক্ষা করবে, তার ও সেই মন্দ কাজের মধ্যে যদি অনেক দূরের ব্যবধান থাকত! আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি সম্পর্কে সাবধান করছেন। আর আল্লাহ নিজ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
—আলে ইমরান - ৩০
✅হে নবী! তুমি মানুষকে বলে দাও, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবেসে থাক, তবে আমাকে অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ অর্থাৎ পাপরাশি ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
—আলে ইমরান - ৩১
✅সূরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কতিপয় লোক রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট বলল, তারা আল্লাহকে ভালোবাসে। তখন ভালোবাসার প্রতীক কি হবে, সেই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অত্র আয়াতটি নাযিল হয়।
✅হে রাসূল বলে দাও, আল্লাহ ও রাসূলের অনুগত হও। তারপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রেখ, আল্লাহ কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না।
—আলে ইমরান - ৩২
✅সূরা আলে ইমরানের ৩২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যারা আল্লাহকে ভালবাসার দাবী করে এবং আল্লাহ্র ভালবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষী আলোচ্য আয়াত সমূহে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর ভালবাসার সম্পর্কে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন। এই দুনিয়াতে যদি কেউ মহান রব আল্লাহ্ তা’আলার ভালবাসার দাবী করে, তবে হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর অনুসরণের কষ্টি পাথরে তা পরখ করে দেখা অত্যাবশ্যক। তাতে কে আসল ও কে নকল ধরা পড়বে। যার দাবি যতটুকু সত্য হবে, যে হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর অনুসরণে ততটুকু যত্নবান হবে এবং নবী করীম (সাঃ)-এর শিক্ষার আলোকে পথের মশাল রুপে গ্রহন করবে। পক্ষান্তরে যার দাবী দুর্বল হবে, হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর অনুসরণে তাঁর অলসতা ও দুর্বলতা সে পরিমাণ পরিলক্ষিত হবে।
✅আল্লাহ আদম (আঃ), নূহ (আঃ), ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর এবং ইমরানের বংশধরগণকে সমস্ত বিশ্বজগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
—আলে ইমরান - ৩৩
✅আদম (আঃ), নূহ (আঃ), ইব্রাহীম (আঃ) এবং ইমরানদের এমন বংশধর, যার সদস্যগণ সৎকর্ম ও ইখলাসে একে অন্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। আর আল্লাহ প্রত্যেকের কথা শোনেন এবং সবকিছু জানেন।
—আলে ইমরান - ৩৪
✅স্মরণ করে, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার গর্ভে যে শিশু রয়েছে, আমি তাকে তোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত রেখে। সুতরাং তুমি আমার পক্ষ হতে তা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি সকল কিছু শোন এবং সকল বিষয়ে জান।
—আলে ইমরান - ৩৫
✅অতঃপর যখন তার কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করল তখন সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি যে কন্যা সন্তান জন্ম দিলাম! বস্তুত আল্লাহ ভালো করেই জানেন, তার কী জন্ম হয়েছে। আর ছেলে তো মেয়ের মত হয় না। আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম এবং তাকে ও তার বংশধরগণকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে হেফাজতের জন্য তোমার আশ্রয়ে অর্পণ করলাম।
—আলে ইমরান - ৩৬
✅সুতরাং তার প্রতিপালক তাকে অর্থাৎ মারইয়ামকে উত্তমরুপে কবুল করলেন এবং উত্তমরুপে লালন পালন করলেন আর তিনি তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন। যখনই যাকারিয়া তার কাছে তার ইবাদতখানায় যেত, তখনই তার নিকট খাদ্য-সামগ্রী দেখতে পেত। সে জিজ্ঞেস করল, হে মারইয়াম! এ সব তুমি কোথায় পেলে ?’ সে বলত, ‘এই সব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ যাকে চান অপরিমিত রিযিক দান করেন।
—আলে ইমরান - ৩৭
✅সেখানেই ঐ সময় যাকারিয়া তার প্রতিপালকের কাছে দু‘আ করলেন এবং বলতে লাগলেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তোমার নিকট হতে সৎ ও পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি দু‘আ শ্রবণকারী।
—আলে ইমরান - ৩৮
✅একদা যাকারিয়া যখন ইবাদতখানায় সালাত আদায় করছিলেন, তখন ফিরিশতাগণ তাঁকে ডেকে বললেন, আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়া এর জন্ম সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যিনি জন্মগ্রহণ করবেন আল্লাহর এক কালিমার সমর্থকরূপে, যিনি হবেন মানুষের নেতা এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।
—আলে ইমরান - ৩৯
✅যাকারিয়া বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র সন্তানের জন্ম হবে কিভাবে, যখন আমার বার্ধক্য এসে পড়েছে এবং আমার স্ত্রীও বন্ধ্যা? আল্লাহ বললেন, এভাবেই! আল্লাহ যা চান করেন।
—আলে ইমরান - ৪০
✅সূরা আলে ইমরানের ৩২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যাকারিয়া (আঃ) ছিলেন মারইয়াম (আঃ)-এর খালু এবং একজন নবী। মারইয়াম (আঃ)-কে বায়তুল মুকাদ্দেসের খেদমতের জন্য উতসর্গ করার পর যাকারিয়া (আঃ)-এর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। বায়তুল মুকাদ্দাস সংলগ্ন একটি কক্ষে মারইয়াম (আঃ) থাকতেন। যাকারিয়া (আঃ) প্রায়ই সেখানে যেতেন। তিনই মারইয়াম (আঃ)-এর সামনে বিভিন্ন ফলফলাদি দেখতে পেতেন। তিনই জিজ্ঞাসা করলেন, হে মারইয়াম! এ খাবার তোমার নিকট কোথা থেকে আসে? তিনই বললেন, আল্লাহ্র পক্ষ হতে আমার জন্য জান্নাতী খাবার আসে। এদিকে যাকারিয়া (আঃ)-এরও কোন সন্তান ছিল না তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই বার্ধ্যকে উপনীত। সন্তান লাভের প্রচন্ড আগ্রহে তারা আল্লাহ্র সমীপে একটি পুন্যবান সন্তানের জন্য দোয়া করলেন। আল্লাহ্ হযরত ইয়াহ্ইয়াহ (আ)-কেতাদের দান করেন।
—আলে ইমরান - ৪০
✅সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য কিছু নিদর্শন দাও। আল্লাহ বললেন, তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত মানুষের সাথে ইশারা ব্যতীত কোনও কথা বলতে পারবে না। আর তুমি প্রতিপালকের অধিক পরিমাণে যিকির করবে, আর সকাল সন্ধ্যা তার তাসবীহ পাঠ করবে এবং তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করবে।
—আলে ইমরান - ৪১
✅স্মরণ করে যখন ফিরিশতাগণ বলেছিল, হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করে বেছে নিয়েছেন, তোমাকে পবিত্রতা দান করেছেন এবং বিশ্বের সমস্ত নারীর মধ্যে তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
—আলে ইমরান - ৪২
✅হে মারয়াম! তুমি নিজ প্রতিপালকের ইবাদতে মশগুল থাক এবং সিজদা কর ও রুকূকারীদের সাথে রুকূও কর।
—আলে ইমরান - ৪৩
✅হে নবী এটা হলো গায়েবী বিষয়ের সংবাদ, যা আমি তোমাকে ওহী দ্বারা পাঠিয়ে থাকি। আর তুমি তো তাদের কাছে ছিলেন না, যখন প্রতিযোগিতা করছিল যে, কে প্রতিপালন করবে মারইয়ামকে এবং তারা তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা ঝগড়া করছিলো।
—আলে ইমরান - ৪৪
✅স্মরণ করে সেই সময়ের, যখন ফিরিশতাগণ বলেছিল, হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাকে তাঁর পক্ষ হতে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন। যার নাম হবে মাসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম, যে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে মর্যাদাবান হবে এবং আল্লাহর নিকটতম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
—আলে ইমরান - ৪৫
✅সূরা আলে ইমরানের ৪৫ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযাহী, মারইয়াম (আঃ) একবার হায়েজের পর গোসল করে পবিত্র হলে জিবরাঈল (আঃ) এসে তাঁর আস্তিনে একটি ফুঁ দিয়ে বললেন, আল্লাহ্ আপনাকে একটি পুত্র সন্তান দিবেন। তিনই নবী এবং বহু মু'জিযার অধিকারী হবেন। মারইয়াম (আঃ) বললেন, আমার না বিয়ে হয়েছে আর না কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেছে কিভাবে আমার সন্তান হবে? জিবরাঈল (আঃ) বললেন, আল্লাহ্র যা ইচ্ছা তাই হবে। মারীয়াম (আঃ) সন্তান সম্ভবা হলেন। অতঃপর যখন সন্তান হল তখন লোকেরা জড় হয়ে সমালোচনা করতে লাগল। তিনই নবজাতকের প্রতি ইশারায় বললেন, আপনারা তাকে জিজ্ঞাস করুন। তখন নবজাতক বলল, আমি আল্লাহ্র রাসূল, পিতা ছাড়াই আল্লাহ্ আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর এই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অত্র আয়াতটি নাজিল হয়।
✅তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবেন অর্থাৎ সঠিকভাবে বলতে গেলে যখন তিনি দোলনায় বা মায়ের কোলে থাকবেন এবং পূর্ণ বয়স্ক হবেন তখনও তিনি মানুষের সাথে কথা বলবেন। আর তিনি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
—আলে ইমরান - ৪৬
✅মারইয়াম বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার কিভাবে পুত্র সন্তান জন্ম নেবে, আমাকে তো কোন পুরুষ মানুষ স্পর্শ করেনি।? আল্লাহ বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার জন্য কেবল বলেন, ‘হয়ে যাও’। ফলে তা হয়ে যায়।
—আলে ইমরান - ৪৭
✅আল্লাহ তাঁকে অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়ামকে, কিতাব, হিকমত, তাওরাত এবং ইনজীল শিক্ষা দান করবেন।
—আলে ইমরান - ৪৮
✅তাঁকে বনী ইসরাঈলের নিকট রাসূল বানিয়ে পাঠাবেন। সে মানুষকে বলবে, আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে নিদর্শন নিয়ে এসেছি, আর সে নিদর্শন এই যে, আমি তোমাদের সামনে কাদা দ্বারা এক পাখির আকৃতি তৈরি করব, তারপর তাতে ফু দিব, ফলে তা আল্লাহর হুকুমে পাখি হয়ে যাবে এবং আমি আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করে দিব, মৃতদেরকে জীবিত করে দিব আল্লাহর হুকুমে এবং তোমরা নিজ ঘরে থেকে যা খেয়ে এসেছে এবং তোমরা নিজ ঘরে যা রেখে এসেছে, তা সবকিছু আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব। তোমরা মুমিন হয়ে থাকলে এসব বিষয়ের মধ্যে তোমাদের জন্য যথেষ্ট নিদর্শন রয়েছে।
—আলে ইমরান - ৪৯
✅আমার পূর্বে যে কিতাব এসেছে অর্থাৎ তাওরাত, আমি তার সমর্থনকারী এবং আমাকে এজন্য পাঠানো হয়েছে যাতে তোমাদের প্রতি যা হারাম করা হয়েছে, তার মধ্যে কিছু জিনিস তোমাদের জন্য হালাল করি এবং আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে অনুসরণ কর।
—আলে ইমরান - ৫০
✅নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমারদেরও প্রতিপালক। এটাই সরল পথ। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে।
—আলে ইমরান - ৫১
✅ঈসা (আঃ) যখন বণী ইসরায়ীলের কুফরী সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারলেন, তখন বললেন, কারা আছে আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে? সঙ্গী সাথীরা বললো, আমরা রয়েছি আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা হুকুম কবুল করে নিয়েছি।
—আলে ইমরান - ৫২
No comments